Saturday, 29 February 2020

ভাওয়াইয়া-দোতরা পত্রিকা সংখ্যা পঞ্চম প্রকাশিত- ০১/০৩/২০২০




 ভাওয়াইয়া-দোতরা পত্রিকা সংখ্যা পঞ্চম
প্রকাশিত-
০১/০৩/২০২০

মনের কাথা 
       সুধাংশু বর্মন

পহেলা দিনে দেখিয়া বারে
 মনত খাইছে তোক
ক্যাংকরি কোম মনের কাথা
খুলিয়া বাড়ে তোক।
ভেল্লা দিন যাবার পরে...
উলসি উঠিল মন,
সরম -নইজ্জা ফেলেয়া বারে
নদীত দিলুং ঝাপ...
পহরিবার নাপায়া বারে
করং বাপরে বাপ!
কস্ট করি উজান যাছং
ধরিবারে তোক,
জলের সোসত ভাসিয়া যাছং
ক্যাংকরি ধরিম তোক।
দুই-পাও না-হয় গেলুং ভাটি
ডিক্কি ধরিম মাটি,
হুরহুরিয়া যাম উজিয়া
গন্তব্য খানত খাটি।
মনের কাথা মনোত থুইয়া
ধরসুং এই বার কমর ডিকিয়া.
লক্ষ্মী মাক আনির নাইগবে
এই বার ঘরকরিয়া।


ভাওয়াইয়া-দোতরা পত্রিকা সংখ্যা পঞ্চম
প্রকাশিত-
০১/০৩/২০২০

ন্ধু নিয়া শখের গীত গাও
          মঙ্গল বর্মন

ও মোর মাহুত বন্ধু রে যাইও হামার বাড়ি
কুনদিন হয় নাই তোমার সাথে আড়ি।
অবধের মিলনের বন্ধু প্রানেশ লয়ে
স্তোতে বাঁধা জল সাড়া নদী বয়ে।
একাকি ভাসে না নদী -দোলার পানার ফুল
তোর বান্ধুয়ার গাও মজিতে খসিল সোনার ফুল
তোর বান্ধুয়ার গাও মজিতে খসিল সোনার দুল।
তোর্সা টা পার হয়া কুচবিহার খান পায়া
গরুর গাড়িৎ নিয়া যাইম সখিক যায়া।
আর আছে কত কি দেখিবার টানে
সারা খান দেখিয়া জুরাইম হাউস না মেটে প্রাণে।
ভোমরা ফুলের গন্ধে তোমরা আজোও প্রেয়সী
সারা গাও ছড়াইল মোর তোমার ভালোবাসা।


ভাওয়াইয়া-দোতরা পত্রিকা সংখ্যা পঞ্চম প্রকাশিত-
০১/০৩/২০২০

 পুরাণ কাথা
          বিষ্ণু রায় 

হারেয়া গেইসে পয়াল খেড়ের ঘর,
                    নাই আর বাঁশের বিশোকর্মা।
হারাইসে দড়ি পাকা উঠকন,ঢেড়া,
                     নাই ঘরের দুয়ারের ডেওনা।
হারেয়া গেইসে হাচকিনি, বেধা,
                                আরও হারাইসে মই।
হারেয়া গেইসে গরুর বাথান,
                       হারাইসে গামছা বান্ধা দই।
হারেয়া গেইসে হাতুড়া, কুর্শি,
                     নাই ঝাবুরা উঠকা কারালি।
হারাইসে বাঁশের হাদালার চাঙড়া,
                  ঘরোত নাই আর চটি দাগিলি।
হারাইসে পয়াল খেড়ের সেজারি,
                       হারেয়া গেইসে ডার পাখা।
হারেয়া গেইসে ছাম,গাইন,
                           নাই চুরা ভুকিবার ঘাটা।
হারাইসে খরচ করিবার জাওলা,
                           হাটুয়া হারাইসে বাঙ্কুয়া।
হারেয়া গেইসে দেমনিয়ার প্রজা,
                 হারাইসে পুরান বোকাতি চুয়া।
হারেয়া গেইসে ডারিঘরটা,
                          নাই আর শিলিম হোকা।
হারেয়া গেইসে সরু ধানের চাউল,
           গসা হইসে ঠাকুরি কালাইর ছেকা।

ভাওয়াইয়া-দোতরা পত্রিকা সংখ্যা পঞ্চম প্রকাশিত-
০১/০৩/২০২০

      কইম
 রমেন বর্মন

খমকায় করি কইম...
ইকান ঘাটা কায় কায় আসিম একনা আতি নইম
আন্দার আতিত বালোবিলাই বোলে কইতোর নিগাইল পালে
মরিনাগি মোর খ্যায়াল নাই এলানা হইল ভালে
মনের কতা মোর মনোত পচিল কলুং হগহুজার
হাউসের পংকি মোর উড়ি গেইল দেখিয়া খাঁচার...

Saturday, 15 February 2020

ভাওয়াইয়া-দোতরা পত্রিকা।



ঐ নৌকা কান
 রমেন বর্মন
       

হিত্তি আসির না নাগে
টোপোলা টুপুলি গোটে কড়াল মতো ওটে চলি যাবু...

নৌকা'কান বান্দা আচে...

নদী যদি থলকূলও হয় তাও চড়বু
মুই ওটেকোনায় থাকিম...

রাতারাতি হামা চলি যামো
টুনি পোকির মাও ও যেনো না জানে...

তারপরে একেনা
নয়া উজান পাড়োত উটি অ্যামোন করি সংসার বান্দিমো
কাহো ট্যার পাবে না...

সেদিন মুই তোক ওকিনা কথা কইম...

কবি অজিত অধিকারীর দুইটা কবিতা;
যেমন ভাবঙ

যে গছের মুন্ড কাটি তোমরা কংক্রিট বসাইসেন , উয়ার মোর ভ্যালেনটাইন

যে নদী মানষির অনাচারে ঘাটা হারেয়া দুখী হয়া আছে
উয়ার সথে মোর পিরীতি

এমুন কথা ভাবিলে মোর ভালে দিন কাটে

যে সূরজ আলো দেয় ,উত্তাপ দেয় উয়াকে দেবতা বুলি জানঙ

যে মানষি মানষিক ভালোবাসে উয়াক মুই দেবতার সন্তান বুলি ভবঙ

এইল্যা ভাবিলে মোর দিন ভালে কাট

হামার গেরাম
কতবার হাত ফসকি বিরি যায় সুখ, তাও বাঁচি থাকে হামার গেরাম


কত নাকান কথা কয়া তোমরা শহরত চলি যান তাও বাঁচি থাকে গেরাম

মাইল মাইল কুয়াশা আসি পরে ধানখেতোত ,তাও বাঁচি থাকে গেরাম


এলাও আছে নইজ্যানাগা গৃহবধু

সূরজ ওঠে উড়ি যায় বুলবুলি
তাও বাঁচি থাকে হামার গেরাম

ভোট হয়
তোমরা আসি কন এবার বিপিএলত তুলি দিবেন হামার নাম


        জয় কামতাপুর
স্বপন কুমার রায়

বীরের রাজ্যত জন্ম মোর
বীর পুরুষে কয়।
জাতী নিয়া আন্দোলন করমো
না করি আর ভয়।

যুগ যুগ ধরি হামরা
অবহেলিত হইয়।
অধিকার নিয়ে লড়াই করমো
হামরায় হমো জয়ই।

বিশাল বড়ো রাজ্য হামার
চাইরো দিকে আছে ছড়ি।
আসাম,নেপাল,বিহার
বাংলাদেশের রংপুর থেকে ধরি।

একই সুরে কথাবলি
গাই ভাওয়াইয়া গান।
আব্বাস উদ্দিন,টিপুসুলতান
মানি -পঞ্চানন,ধনেশ্বরের অবদান।

দোতরা হামার সঙ্গের সাথী
বাঁশি, সারিন্ডার টান।
নানা ধরনের কৃষ্টি কালচার দেখলে
উওর বাংলায় যান।

কবির গান কবির লড়াই
সাইঢোল, কুষান মেচনির গান নাচ।
চাইরো দিকে যাক জমক থাকে।
সানাই ঢোলের বাজ।

   ঘাটা       
         রোহিত বর্মন
     
গাও ঘোস্টে যায় কত লোক হায়!
নায় দেখে তুই কায়!
মন খান ঠনঠনা হাটি যায় দনদন করি ঘোস্টে-

পাছিলা পাকোত মরং চিকরিয়া
কায় শুনে মোর আও সগায় যে....

মোর এই চিকরন আর কত দিন

টুটি মুখ ফাটি চিকরং খালি মুইয়ে

মুই চিকরং হয়তো পায় না শুনির, হয়তো বসি রয় দশ তালা বিল্ডিংত এক খান রাজকীয় সিংহাসন বসি!
মুই সগারে হইছোং উস্টা খাওয়া ঘাউয়া !
চোখের কাটা যে-----
কায় কি কয় কউক..

মুই তো মুইয়ে

Saturday, 8 February 2020

ভাওয়াইয়া-দোতরা সাহিত্য পত্রিকা তৃতীয় সংখ্যা প্রকাশিত ০৯/০২/২০



ছবি
 অজিত অধিকারী

গোয়ালপাড়িয়া গানের নাখান জাগি ওঠে ব্রহ্মপুত্রের সাকাল

খানেক দূরত ঘন বনখ্যাত হরিনগুলা ছবির নাখান
ডেনা মেলি উড়ি যায় পানকৌরী
মুই খালি শিলংসুন্দরীর কথা ভাবঙ


কত ঢক করি কঙ মোর ব্যাক্তিগত ব্যাথা

উপরোত পাহাড়,নিচ দিয়া বয়া যায় সুতার নাকান জল

পাহারোত কত নাকান গছ
গছগুলা শুষি নেয় মোর যত নীল

ভাল নাগে মোক যখন দ্যাখঙ
পাকদন্ডী ঘাটা দিয়া উড়ি যায় জীবনানন্দের গাংচিল

আমপুরি 
রমেন বর্মন


মাও মোর আমপুরি
এই যে দীঘিলা ঘাটা
ওদি ওদি ওদি যা তোর যমপুরী...

তুই না কইস মোক নিগির আইসে
একেনা 'চুপ' কথা কয়'য়া
গেইচে

এই যে তোর নাটি
এই যে নগর হাটের হাটি
খালি একান চাটি
যেকেনা চলি গেইল ওকিনায় সব খাটি...

হিসাব করি দ্যাকোং
খালি ছাই আর মাটি...


মা মোর 
    জয়ন্ত রায়

কুণ্ঠে হারায় গেল মা তুই
       মোক একলায় রাখিয়া,
বিতে ছে মোর দিন রাতি লা
        খালি মা তোর কাথা ভাবিয়া।
তোক দেখিবা নাপায়া মা গো
             মোর মনডা ছাপেছে,
মা তোর কাথা মনত ভাবিয়া
    দুইডা চখুতে মোর জল আসেছে।
মাথাডা সতরায় আদর করিয়া
   যেলা নিসিলো তুই মোক কলাত,
অইলা স্মৃতি এলাও মা মুই
         ফম রাখিসু মোর মনডাত।
নিন্দিবা যেবিলা যাসু মুই
        মোর ঘরের বিছানা খানত,
সেলায় তোক মুই দেখা পাছু
         মা মোর নিন্দের স্বপনত।
আয় না মা তুই ফিরিয়া একবার
         রহ না তুই মোর কাছত,
মনত মোর সুখ না লাগে
       এলা নাই যে মা তুই পাসত।
স্নেহ মমতায় আছে ভরা
        মা তোর ওই সুন্দর মনত,
খুঁজিয়া বেড়াছু মা তোক
        মুই এক অচেনা নয়া দেশত।


ছাড়াছাড়ি 
      পূজা রায়

সেই যে গেলু ছাড়ি
না দেখিলু ফিরি
রাইতে দিনে মনের আয়নাত
ভাসে তোমার ছবি।

মিষ্টি কথায় মোক ভোলেয়া
মনটা নিলু কারি
মনত দাগা দিলু তুই
অন্তর যায় জ্বলি।

রইয়া রইয়া কান্দোং মুই
তোমার নাম ধরি
পুরান দিনের স্মৃতি গিলা
মনত ওঠে ভাসি।

তাংও ভাল পাং তোক
যতয় দুঃখ দিস
শত কস্ট দিস মোকে
তুই ভালে থাকিস



ধারাবাহিক উপন্যাস

              হালুয়ার সংসার
                রোহিত বর্মন

  মজিবরের হালের গরু
-----------------------------
সগে ঋণত গেইল, মজিবর আর পায় না চার জনের সংসার চালের! নুন আনতে পান্তা ফুরায়, তারে মধ্যোত দুই দুইটা ছাওয়ার লেখা পড়ার খরচ। আমিনারো দেহা খান ভাল নোমাঞ একলায় আর কতলা কামাই করে মজিবর। আইতোত নিন আইসে না এইলা কথা ভাবিয়া। আপায় উপায় নাই মাথা চক্রর দেয় জালায় যন্ত্রণায় দেহা খানত জোড়ো নাই।
আতি পোহাইলে নৃপতি আসিবে সুদালি টাটা বুলির, একটাকাও তো নাই ঘরত হাত ফাকা ক্যাকরি দিম কালি যে উয়ার সুদের টাকা। নৃপতি যে লোক টাকা না দিলে তো মানির নায়।

 সাকাল সাকাল নিন থাকি নাই ওঠিতে নৃপতি আসিল কিরে মজিবর টাকা দে সুদের আর দেরি না করিস তোর মেলা বাহানা দেখলুং শুনলুং আর না ভাইও আজি টাকা দে না হইলে মুই যাবার নং রে । সুদে আসলে ভাইল্লা হইছে ভাইও আজি হিসাব বুঝি নিয়ায় যাইম ! মজিবরের চোখ মুখ লাল হয়া গেইল কি করিবে এলা ভাবিয়া কুল পায় না চিন্তায় চিন্তায় বসি পড়িলেক মজিবর। নৃপতি এমন আও শুনিয়া মজিবরের মাইয়া আমিনাও ঠস খায়া গেইল। আমিনা মজিবরের বগলত আসিয়া বসিল আর কয় এলা কি করমো ক্যাংকরি এমার পাইসা দিই। মজিবরের মুখ শুখি যাবার ধরিলেক দেহা ঝসি নালকাল হয়া গেইল কি করিবে এলা ভাবির পায় না। নৃপতি বসি অইতে অইতে চিংকরি উঠিল কি রে মজিবর কানত করা শোনধায় না মুই কি এটে সারা দিন বসি থাকিম, টাকা দে না হলে জিনিস দে আর তাও যদি না থাকে তোর তাহলে তোর চোদ্দ পুরুষের বাস্তুু ভিটা মাটি বেছে দে রে মজিবর মুই আর দেরি করির না পাং। মজিবর আর আপায় উপায় না পায়া ঘোষা হয়া কয়া ফেলাইল নৃপতি দা মোর হালের গরু দুইটায় নিয়া যা। আমিনা এইখান আও শুনিয়া চকটি উঠিল আর মজিবরক কয় হালের গরু দুইটা দিলে তোমা করিবেন কি? ক্যাং করি আবাদা করিবেন। মজিবর কয় দেখ আমিনা তাছাড়া আর কোন উপায় নাই হামার থেকে হালের গরুয় দেওয়া খাইবে হামাক! হালের গরুর কথা শুনিয়া নৃপতি গরু দুইটা হাত নিল ওমন দেখিয়া আমিনা ডোকরি কান্দির ধরিল আর হুশ ফিরি আসলে আমিনা যায়া নৃপতির দুই ঠ্যাং ধরিয়া গড়াগড়ি চালু করিলেক, মজিবর ফ্যালফ্যাল করিয়া চায়া দেখির নাগিল নৃপতি আর মাইয়া আমিনার কান্ড কৃতি কিন্তুু কি করিবে এক ভিদি মহাজনের জ্বালা আর এক ভেদি মাইয়ার কান্দন দেখিয়া মজিবরো হুশ হারা হয়া গেইল।
মহাজন নৃপতির মনত একনাও দয়া আসিল না আমিনার কাকুতি মিনতি সগ ফাও হয়া গেইল।
মজিবরের হালের গরু পায়া নৃপতি খিব খুশি হইল আর হালের গরু দুইটাক টানিতে টানিতে নিয়া যাবার ধরিল নৃপতি। গরু দুইটাও যাবার চায় না মজিবর আর আমিনাক ছাড়িয়া তাও নৃপতি টানি নিয়া যাবার ধরিল!মজিবর আর আমিনির দুই চোখ দিয়া পানি ঝড় ঝড়ে পড়িল নাগিল আর ফ্যাল ফ্যাল করি চায়া দেখির নাগিছে নৃপতি দুই পাশে দুইটা গরুক টানি নিয়া যাবার ধরিছে সরু আস্থা আবাদি ভুইন এর মধ্যে দিয়া!

    চলিবে


Friday, 7 February 2020

ভাওয়াইয়া-দোতরা পত্রিকা

ভাওয়াইয়া-দোতরা সাহিত্য পত্রিকা তৃতীয় সংখ্যা প্রকাশিত হবে ০৯/০২/২০

Saturday, 1 February 2020


ভাওয়াইয়া-দোতরা পত্রিকা দ্বিতীয় সংখ্যা প্রকাশিত ০২/০২/২০২০

শিপা
 পীযূষ সরকার
শিপা ছিড়ি-ছিট্টি গেইছে ত্যাং মুই ভাঙি পড়ং নাই
মানষি ভাবে মরা গছ মোক ,মুই তো এলাও মরং নাই

কতনাকান পঙ্খি আইসে , বাসা বনের চায়
নাই পাতা নাই ফুলের দেহা ,ঠোট মুছিয়া যায়
কুড়াল দিয়া চোটায় কাও , খড়ির লোভে মোক
কথা দিয়া চোটায় বেশি গার বগলের লোক
হুরকা তুলি কতজনে নড়ের চাইছে ,নড়ং নাই

মানষি ভাবে মরা গছ মোক মুই তো এলাও মরং নাই !
বোজাপড়া

 অজিত অধিকারী

কুয়াশা ভাঙি,খেড়ের পুঞ্জি ভাঙি মুই আগেয়া যাঙ
দুই চারজন মানষি খোঁজঙ

এখনা কম্পনের কথা কইম।যেদু এখনা ঢেউ তোলা যায়

এই ঢেউ কোনা কীসের?এটা এখনা বোজাপড়া।

এটা এখনা পীরিতি।এটে no satiety.

দিনে দিনে এই পীরিতি ঘন হয়।


ওই তল্লিগছ,গুয়াবাগান নিমন্ত্রণ করে।

এই কম্পন কোনা দেওয়া মোর হাবিলাস

মুই কিছুই না চাঙ।দুইচারঝন মানষি চাঙ

আস্তে আস্তে মানষি বাড়বে।আস্তে আস্তে

পরমানন্দের গান সগায় কমো

তোমারাও আসবেন।মুই পন্থ চেয়া রঙ
আইসো-'

নয়া করি জীবন সাজাই

মারিফেলা কান্ড
 কানাই রায় সরকার
কনে দিনে বাড়িল বয়স,
গাবুর হনু মুই;
দুস্কের কতা কনতো বনু
কোনটে এলা থুই?

স্কুলের মায়া ছাড়িয়া বনু
কলেজোত দিনু ঠ্যাং,
ওই নাটা ঠাউঙরা চ্যাংরাগুলা
পাছ ছাড়েনা ত্যাং।

সেদিন ঘাটাত দুপুরা বেলা
কলেজ জেলা জাঙ,
একনা চ্যাংরার কান্ড দেখি
মাথা হৈছে হ্যাঙ।

বনু চুল ছাটিছে মুরগা কাটিং,
মুখের কি তার মোশান!
পিন্দনের প্যান্ট হুকশি পড়ে,
ওইটায় উয়ার ফ্যাশান।

কাউয়া ঠ্যাঙা ভাবে হাটি
বগল আসি কয়,
'তুমি কি আমাক দেখি
লাইক করত্যা হ্যায়?'

এইল্লা কতা শুনিলে বনু
মনটা কি কয় হোর!
মনের রাগে কয়া ফেলাইচোঙ,
'বাড়িত মাও বইন নাই তোর?'

আর একেনা ফাকসা সেদিন
বাইক ধরিয়া পাছত,
মোক ফলো করতে করতে
উস্টা খাইছে গছোত।

উস্টা খাওয়ার আগোত সেলা,
মোক দেখিয়া কয়,
"তুমহারে লিয়ে দিল তো পাগল হ্যায়!"
সঙ্গে সঙ্গে মুইও কইছোঙ,
"লেকিন তুম তো ছাগল হ্যায়।"

এঙ কোরিয়া একেক দিনে
একেক জনের জ্বালা,
ভাব দেখিলে মনে হয়
উমরা মোর
বাঁশি বাজা কালা।

বনু,
হামরা নারী,,,,
হামরা কিন্তু নোমাই তোমার ভাণ্ড,
এঙকরিয়ায় ঘোটি চলছে
খালি মারি ফেলা কান্ড।

ধারাবাহিক নাটক
-------------------------

                        হামাক বাচাও
                         নগেন রায়   
                 প্রথম অংক -----
                             প্রথম দৃশ্য

 নগেনর প্রবেশ , ইতস্তত , পায়চারী করছেন ।

(নেপথ্যে চিৎকার )পালাও পালাও পুলিশ আইসেছে পালাও পালাও (2)

নগেন - পুলিশ কি তাহলে ।
              (দ্রুত জীতেনের প্রবেশ )
জীতেন- নগেন দা ।
নগেন - জীতেন , পুলিশ
            আইসেছে ।
জীতেন - হ্যাঁ - হ্যাঁ কী শুনালু।
                এলাও যদি বাচির চাইস তে দে এদি পচিলা পাকদি দৌড় ওই তোর্সা নদীর পার ।
নগেন - থাম ? তোর মুখ দিয়া
          যে এই মতন কথা বেড়াইবে মুই আশা করং নাই -- ছিঃ
জীতেন- নগেনদা ।
নগেন - হ্যাঁরে, হ্যাঁ আইন
          হাতত নিবার মুই কায় ।
রাগের মাথাত অত খেয়াল ছিলনা যে লোকটা এমনী মরি যাছে তবু টাক মুই ।
জিতেন - নগেন দা
 নগেন - তবু আজি ইচ্ছা
          করিলে মুই বাচি যাবার পাং, না পালেয়া না হয় ঘুষ দিয়া কিন্তূ কি হৈবে ?
জিতেন- স্থম্ভিত :-------------
নগেন - ভাবি দেখ জিতেন
            হামরায় গ্রামের চ্যাংরা হামারে উপর তামান আশা,ভরসা হামরায় গ্রামের ভবিষ্যত, হামর উচিত মানসীক বাচা মানসীক বাচের যায়া যদি হামার বাচাটাকে বড়ো করি দেখি তাহইলে কেমন হামা গ্রামের যুবক ? কেমন হামা
শিক্ষিত ?
জীতেন - নগেনদা মোর ভুল
            হৈছে মোক মাফ করি দে ।
       (সহসা পুলিশ, দারোগার প্রবেশ )
দারোগা - হ্যান্ডস আপ (উভয়
             হাত ওঠাইল ) আর ইউ নগেন রায় দ্যা মার্ডারার
নগেন - ইয়েস স্যার
দারোগা - ওয়েল , ইউ আর
              আন্ডার আয়রেস্ট ।
নগেন- আয়রেস্ট বাট?
দারোগা- সাট আপ , চোপড়া।
              বিকুইক
পুলিশ- ইয়েস স্যার ,আই এম।
             রেডি ( কড়া নগাইল)
দারোগা- এন্ড ইউ ?
জীতেন- জীতেন রায় ।
নগেন - মাই কমপেনিওন
দারোগা- ও আই সি দ্যট
                মিনস হি ইজ অলসেএ কনভিকট । চোপড়া, আরে হা করে দেখছিস কি ননসেঞ্চ , স্টুপিড যাও নিয়ে যাও একে ।
চোপড়া- ইয়েস স্যার ।
নগেন - দারোগাবাবু উয়ায়
           নিঃ অপরাধ
দারোগা- সাট আপ , নি অপরাধ সে বুঝবার আমি, তোমাকে এর ওকালতি করতে হবে না , চোপড়া
পুলিশ - ইয়েস স্যার ( ইঙ্গিত
            করিল । জীতেনক নিয়া পুলিশের প্রস্থান )
দারোগা - এন্ড ইউ প্রসিড --
            প্রসিড টাওয়াউস থানা ইমিডিয়েটলি, আই সো হ্যাভ ইউ অলসো এনি অফ্জেকশন ।
নগেন--নো সার, দোস করিসু
          তার জন্য মোর কোন দু:ক্ষ নাই। কিন্তূ দু:ক্ষ এই তোমরা খালি উপরেরটা দেখির জানেন, তলেয়া দেখেন না ।
দারোগা--হোয়াট-
নগেন--সমাজে যায় খোদ
          দু:সমন,সমাজোত দিনকে দিন ঘুন ধরাছে ছোট বড়লার জীবন নিয়া ছিনিমিনি খেলাছে হুলা মানসিক তোমরা মুখের আগদি হাতি বেড়ালেও দেখিয়াও যেনি দেখেন না । এই মতন তোমরা দারোগা পুলিশ ।
দারোগা - (রাগিয়া ) নগেন
              হ্যাভ এনি এভিডেনস
নগেন - ইয়েস -ইয়েস সার,
      আজি তাকে তমরা সন্দেহ করি জেহেল নিগান কবার পাবেন মাইরের ঠালাতে কত নি দুশি মানশিক বিনা দোষে দুসি করেছেন । আর চোর ডাকু খাবার মানসিকলাকে তোমরা ঘুস খায়া
দারোগা - নগেন সাট আপ
নগেন - নো সার আই ডোণ্ট
          এফ্রেরাইড অফ এনিবডি , নিচের তলাত কি হচে না হচে তাক তোমরা দেখেন না দেখেন না যে গ্রামের কয় কান মানসিক কেং করিয়া ধনী হছে যার জন্যে আজি গ্রামত হাহাকার কাহো ফেলেচেরে খাচে কাহো ফকির হছে কেনে এই অবিচার কেনে আজি কালা , প্রমিলার জীবন অকলে বরবাদ হৈল । আর হামার সাজা সংসারটা হয় ছারকার কেনে আজি মোর বাপবৈনিক অকালে মরির নাগে মাক হবার নাগে পাগলি আর ভাইক কি কোম দারোগাবাবু । (নগেন কান্দিল )
দারোগা - নগেন তোমার সাথে
              ঘটে যাওয়া সব ঘটনা আমাকে বলো প্লিজ
নগেন - হামার দু:খের কথা
          তোমাক কয়া কি হইবে দারোগাবাবু কি পারিবেন তোমরা সেই সরিসাদিয়া খেদামভুত সেই শৈস্যাতে ভুত ।
দারোগা- টেলমি প্লিজ
নগেন - যখন শুনিবার চান তো শুনো ।
                                            ------------- অসমাপ্ত


ধারাবাহিক উপন্যাস
-----------------------------

                         হালুয়ার সংসার
                            রোহিত বর্মন
সাজ বেলাত ওঠি আর সইঞ্জা সময় বাড়িত আসি ঢুকে মজিবর, মাইয়া ছাওয়া সগায় বস্ত্য উমার কাম কামাই নিয়া, গরু ছাগল ঢুকায় মজিবর, আতি হইল খাওয়ার বসিল বগলত দুই টা ছাওয়া দুই বগলত বসি ভাতের তাল নিয়া, ভাত দেয় মাইয়া ছাওয়ার হর করে ক্যাংয়ের ব্যাংয়ের তাও মজিবর না হয় গোষা। সকাল সকাল ওঠি মজিবর যায় হালে জোঙ্গালে পাতার বাড়িত। সারা দিন টায় কাম কামাই করি যেলা ঘরত আসিল ফিরি তখন মজিবর মাইয়া কয় ঘোরত নাই যে আজি খাবার কি খামো এলা ? ছাওয়া দুই টাও নিন্দাইসে ওমনে পেটের ভোগ ধরি! মজিবরের মাথার টনক গেইলেক নড়ি কি খাইমো এলা আছে পড়ি হস হস করি এলাং গোটায় আতি খান হামা বা নায় খাইলোং, ছাওয়া লা এলা কেংকরি নইবে গোটায় আতি খান পেটের ভোগ ধরি।

মজিবর ও মজিবর কোটে গেলু রে দোবোর খান খুলেক রে মুই রূপচন রে খোল দোবোর খান। আমিনা দোবোর খান দিল খুলি রূপচন ঘরত আসিল আর ছাওয়া দুইটার বগলত নইল বসি। চায়া দেখে আমিনা আর মজিবরের মুখের ভিতি! রূপচন কয় কি হইল রে মজিবর তোমার দুইজনের মন ক্যানে আজি আন্দার? জানিস রূপচন আজি হামার ছাওয়া দুই টা রে না খায়ায় নিন্দাইসে পেটের ভোগ ধরিয়া! আজি এক দানাও খাওয়ার নাই রে হামার ঘরত। রুপচনের গাও খান ওঠিল গিজলি কি কইস রে মজিবর! খাওয়ার নাই তোর আজি তাও তুই আছিস চুপ করি বসি! কি করিম আর ক কার ওঠে যাইম এই মংগা দিনত সগায় খালি কয় নাই মোর খাওয়ার তোক দিম কোটে থাকি। মজিবরের কথা শুনিয়া আমিনার চোখ দিয়া জল পড়ে ঝড় ঝড় করি! রূপচন দেখি নইল খালি মজিবরের ওদি। রুপ হুট করি ওঠিল আর মজিবরক কইল তুই র এটে বসি মুই আইসো এলায় বাড়ি থাকি। একে দৌড়ে বাড়ি আসিল রূপচন, আসি দেখে আন্দোন ঘরত কি আছে খাওয়ার ওঠকাইটে ওঠকাইটে পাইল চাইটা চিড়া আর গুড়া। চিড়া গুড়া চাইটাক টোপলা করি বান্দি নিয়া আরো এক দৌড় দিল রূপচন মজিবরের বাড়ি বুলি। তখন ও আসি রূপচন দেখে মজিবর আছে চায়া বসি ফ্যালফ্যাল করি এক মনে কি যেন নাগছে ভাবির বগলত বসি আমিনা, ছাওয়া দুইটা আছে এলাং নিন্দোত পড়ি। কি রে মজিবর, মজিবর ওঠিল তাড়াও করি চটকি! হুম ক রুপচন। এই নে এটে চাইটা গুড়া আর চিড়া আছে ছাওলাক দেখে তোলা আর খাওয়ার দেক পছকরি । আমিনা দুই ছাওয়াক তুলিল দেখে আর দিল গুড়া চিড়া খাওয়ার। ছাওয়া দুই টা গুড়া আর চিড়া পায়া খিব খুশি হয়া খাওয়ার নাগিল সেই আনন্দে।
                                                         চলিবে